bbccrimenews”:-বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হুট করেই এভাবে চিনা পণ্য বয়কট কোনও মতেই সম্ভব নয়। কারণ হার্ডওয়্যারের নিরিখে চিনের বিচারে এখনও অনেকটাই পিছিয়ে ভারত। তাই এইমুহূর্তে
গত ১৫ই জুন Oneplus তাদের নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন OnePlus 8 এবং OnePlus 8 Pro লঞ্চ করেছিল। সেল শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই এই দুই স্মার্টফোনেরই স্টক সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়ে যায়। ১৫ জুনই OnePlus 8-এর প্রথম ব্যাচের বিক্রি শুরু হয়েছিল। কয়েক মুহূর্তেই সব হাপিস। আর তারপরে ১৮ই জুন এই স্মার্টফোনের দ্বিতীয় সেল শুরু হয়। দ্বিতীয় বারও সেই এক কাণ্ড। নিমেষে শেষ সমস্ত স্টক। সচরাচর কম দামের স্মার্টফোন অন্তত Oneplus-এর মেলে না। এই দুটো স্মার্টফোনেরই দাম প্রায় ৫০ হাজারের কাছাকাছি এবং তারও একটু বেশি। কিন্তু তাতেও সেই ভারতবাসীর চিনা Oneplus কেনারই হিড়িক আর একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, চিনা পণ্য বয়কট সহজ নয়!
ভারতে সবথেকে বেশি বিক্রি হয় যে স্মার্টফোন, তা হল Xiaomi-র। কিছুদিন আগেই এই চিনা সংস্থা ভারতের মার্কেটে তাঁদের প্রথম ল্যাপটপ লঞ্চ করে, যার সেল শুরু হয় গত ১৭ই জুন। সেই সেলে ব্যাপক হারে বিক্রি হয়েছে Xiaomi-র ল্যাপটপ। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, Xiaomi-র প্রথম ল্যাপটপই ভারতের বাজারে ব্যবসার নিরিখে অত্যন্ত সফল। খুবই অল্প সময়ের মধ্যে Xiaomi-র অফিশিয়াল ওয়েবসাইট অর্থাৎ mi.com থেকে প্রথম ব্যাচের সেলে সব ল্যাপটপই এক্কেবারে ঝড়ের গতিতেই বিক্রি হয়ে গিয়েছে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে যে, খুবই তাড়াতাড়ি এই ল্যাপটপের দ্বিতীয় ব্যাচের সেল নিয়েও হাজিরহতে চলেছে Xiaomi।
এখন প্রশ্ন উঠছে, যে দেশের মানুষ চিনা পণ্য বয়কটের দাবিতে সবথেকে বেশি আওয়াজ তুলছেন, সেই দেশেই কী ভাবে এত বিপুল পরিমাণে ব্যবসা করছে চিনা স্মার্টফোন? শুধু তাই নয়। দেখা যাচ্ছে যে, ১৫ জুন লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় ভারত এবং চিনের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তার পর থেকে যথাক্রমে ১৫, ১৬, ১৭, ১৮ জুন এই কয়েকদিনই লাগাতার রকেটের গতিতে বিক্রি হয়েছে এই Xiaomi-র মোবাইল ল্যাপটপ থেকে শুরু করে OnePlus-এর অত্যন্ত ব্যয়বহুল স্মার্টফোন।
কিন্তু কেন? বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হুট করেই এভাবে চিনা পণ্য বয়কট কোনও মতেই সম্ভব নয়। কারণ হার্ডওয়্যারের নিরিখে চিনের বিচারে এখনও অনেকটাই পিছিয়ে ভারত। তাই এইমুহূর্তে চিনা সফটওয়্যার বর্জন করা সম্ভব হলেও, স্মার্টফোন-সহ অন্যান্য আরও বেশ কিছু গ্যাজেট বয়কট কখনই সম্ভব নয়। আর তার সবথেকে বড় কারণ হল ভারতীয় স্মার্টফোন সংস্থাগুলিও চিনের কাঁচামালই ব্যবহার করে। এ ছাড়াও টেক বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বলছেন, কিছু কিছু ভারতীয় স্মার্টফোন সংস্থা আবার চিনের কাঁচামাল কিনে ভারতের স্টিকার লাগায় তাতে। আর কোয়ালিটির দিক থেকে আজ অবধি কোনও ভারতীয় স্মার্টফোন কোম্পানিই টেক্কা দিতে পারেনি Xiaomi, Oppo, OnePlus-এর মতো চিনা ব্র্যান্ডকে। তাই কিছুটা বাধ্য হয়েই মানুষজনের এখনও অবধি চিনা স্মার্টফোনের উপরেই ঝোঁক বেশি।